সময় রাত ৪:১৮, রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইসলামপুরে মামলার দৌড়াত্বে অতিষ্ট এলাকাবাসী আদালতের নির্দেশে সার্ভেয়ার কর্তৃক পূণঃ তদন্ত সম্পন্ন


বালিয়াকান্দি অফিস ঃ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিনের বাড়াদী গ্রামের মোঃ আবু জাফর মল্লিক এবং তার লোকদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে সোমবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ রাসেল কর্তৃক পুণঃ তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের আফজাল মিয়াদের মামলার নথি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, একই গ্রামের মৃত মছেব আলী মল্লিকের ছেলে মো. আবু জাফর মল্লিক দীর্ঘদিন তার ফুফু শ্বশুরী আকলিমা খাতুন গংদেরকে বাদী বানিয়ে একই গ্রামের মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন মামলাটি বিচারাধিন থেকে গত ২০ মার্চ ২০১৭ তারিখে সাইফুল ইসলাম বাবুগংদের অনুকুলে রায় দেন এবং ডিসমিস করেন আদালত। ডিগ্রী প্রাপ্তির পর বাবু জেলা প্রশাসক রাজবাড়ী এর নিকট থেকে নামজারীর আদেশ পেয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেছে। এরমধ্যে আবু জাফরের পরামর্শে আকলিমা খাতুন জমিটির দখল নিতে বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট একটি মৌখিক সালিশি আবেদন করনে। সেখানে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে জমি আফজাল মিয়ার এবং তার রায় দিয়েছে আদালত এখানে আমাদের কোন কিছু করবার নেই বলে দিলে আকলিমা খাতুন জাফরের পরামর্শে সোজা রাজবাড়ী আদালতে গিয়ে ১৪৪ ধারা মামলা করেন। জমি কার দখলে জানতে আদালত বালিয়াকান্দি উপজেলা ভূমি অফিসের উপর ন্যাস্ত করলে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বিষয়টি গত ২৫ জানুয়ারী ইসলামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপর তদন্তভার দেন। প্রথম পর্যায়ে তদন্ত বাদী পক্ষের পছন্দ না হওয়ায়। দ্বিতীয় বারে মিসপি ৩২৭/২০১৭ মামলার গত ৭ মার্চ ২৮৭ স্মারকে ১১ মার্চ তারিখে বাবুর পক্ষে দখল প্রতিবেদন দাখিল করেন। যখন দ্বিতীয় পর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদন গঠন করা হয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাড়াদী গ্রামের মোড়ল এবং বহরপুর বাজারের প্রসিদ্ধ মুদি ব্যবসায়ী হাজী মোঃ নাদের আলী বিশ্বাসসহ গ্রামের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সেখানে তদন্তকালীন সময় মামলার বাদী আকলিমা খাতুন, তার স্বামী মো. আনছার আলী মল্লিক এবং ভাতিজি জামাই আবু জাফর মল্লিক উপস্থিত স্বাক্ষর করেন। এবং মেনে নেন যে সরেজমিন তদন্ত হয়েছে। এর পর জমিতে থাকা ফসল হলুদ ও মশুরী উত্তোলনের জন্য আকলিমা খাতুন তত্ত্বাবধায়ক দাবী করেন। আদালত তার আবেদন মেনে নিয়ে তা ইসলামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিষদের লোকজন দিয়ে ফসল তুলে নিয়ে তার জিম্মায় রেখেছেন। প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আকলিমা খাতুন পুনরায় আবার নারাজি দেন আদালতে। আদালত মঞ্জুর করে উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ারের বরাবরে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। অথচ আবু জাফরের পরামর্শে সম্প্রতি তাদের চাওয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নালিশি জমিতে এলাকার দরিদ্র কৃষককে ৬শ‘ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা বলে কলা গাছ রোপনের চেষ্টা করেন। যেহেতু মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর দায়-দায়িত্ব চেয়ারম্যানের উপর। সেখানে আকলিমা খাতুন আইন লঙ্ঘন করে সেই জমিতে কলা গাছ রোপনের চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান সেখানে বাধা দেন। এবং ইউনিয়নের লোকজন এলে ঐ শ্রমিক পালিয়ে যায়।
যে জমি নিয়ে আকলিমা খাতুন গংরা সাইফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সেটা অনেক দিন আগেই বাদীর পিতা ইয়াকুব আলী মল্লিক ৬৫নং বাড়াদী মৌজার এসএস ১৬নং খতিয়ানের রহিমন্নেছা ও ছাকিরন্নেছা সাড়ে ৬ আনা ইয়াকুব আলী ও হোসেন আলী প্রত্যেকে ১৩ আনা অংশে ভোগদখল করে আসে। এসএ ১৬ নং খতিয়ানের আর ্এস ৩৩৬ নং দাগের ০.৪৯ শতাংশ, আরএস ৪৬৮নং দাগের ১ আনার ০.১২ শতাংশ আরএস ৪৬৯নং দাগে ১ আনার ০.৭৩ শতাংশ, আরএস ৫২৬নং দাগের ১ আনার ০.৯৫ শতাংশ, আরএস ৫৩৪নং দাগে ১ আনার ১.৫৪ শতাংশ মোট ৩.৮৩ শতাংশ জমির মধ্যে এসএ রেকর্ডিও ইয়াকুব আলী মল্লিক এরএস ৫২৬নং দাগে ৪৩ শতাংশ, আরএস ৫৩৪নং দাগে ২২ শতাংশ সম্পত্তি এসএ রেকর্ডিও ইয়াকুব আলী মল্লিক আপোষ বন্টন সূত্রে মালিক হয়ে ১৭/০৪/১৯৬১ তারিখে দলিল সম্পাদন ও ২১/০৪/১৯৬১ তারিখে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি যার নং ১২৫৪ সূত্রে আয়মানা ওরফে আমেনা নামের কোন এক ব্যাক্তির নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আমেনা ওরফে আয়মানা টাকার প্রয়োজনে সেই জমিটি ০৫/০৪/১৯৯৩ তারিখে দলিল সম্পাদন এবং ১৪/০৮/১৯৯৩ তারিখে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি যার নং ১৭৪৪ মূলে মোঃ আফজাল মিয়ার নিকট বিক্রি করেন।
এরপর বাংলোদেশে জরীপ শুরু হলে আর এস ৫২৬নং দাগটি বিএস ৪২১নং দাগে রুপান্তরিত হয় যার পরিমান ৪৩ শতাংশ। এবং আরএস ৫৩৪নং দাগটি বিএস ৫৫৫নং দাগে ২২ শতাংশ ও অন্য কবলা মূলে ৫ শতাংশ মোট ২৭ শতাংশ। বিএস ৪৯ নং খতিয়ান আফজাল মিয়ার নামে বিএস রেকর্ড চুড়ান্ত প্রকাশ পায়। পরক্ষণে আফজাল মিয়া জানতে পারে একই জমি আকলিমা খাতুনসহ কতিপয় ব্যক্তির নামে বিএস ৩৩৪নং খতিয়ান রেকর্ড হয়েছে। কিন্ত কোন দিনই এই জমি আকলিমাদের ভোগ দখলে ছিলো না। আফজাল মিয়া ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল রেকর্ড সংশোধনের জন্য রাজবাড়ী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যূনাল আদালতে এলএসটি এন্ড এপিটি এর ১৪৫ (ক) ধারায় সংশোধন প্রার্থনা করেন।
এদিকে কোর্টে মামলা দিয়েই আবু জাফর মল্লিক তার অদৃশ্য জোরে মোঃ আফজাল মিয়ার জমি দখল করে নেয়। জমিতে থাকা বড় বড় মেহগনী গাছ তাৎক্ষনিক বিক্রি করে দেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এর শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে সম্প্রতি মোঃ আফজাল মিয়া মৃত্যূবরণ করেছেন।
শুধু তাই নয় আবু জাফর মল্লিক গ্রামের কয়েকটি পরিবারের লোকজনের বিভিন্ন প্রকার মামলা দিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছে । তিনি বারংবারই কোন না কোন ক্ষমতাসীন ব্যক্তির নাম ভাঙ্গীয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এবং সেই সাথে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশকে অযথাই নাজেহাল করে চলেছেন। এলাকার লোকজন জাফরের দৌড়াত্বে অতিষ্ঠ হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কমনা করছেন।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী